পড়াশোনার জন্য উপযুক্ত বিষয় খুজে নেয়া কিছুটা সময় সাপেক্ষ এবং ক্ষেত্র বিশেষ অজ্ঞ ব্যক্তির খপ্পরে পড়ে ভুল তথ্যের শিকার হয়ে হারাতে হয় মূল্যবান সময়। অনার্স এর কোন বিষয় সম্পর্কে ধারণা না থাকাটা ক্ষতিকর এবং ভুল ধারণা থাকা বিপজ্জনক। আজ যে বিষয় নিয়ে আলোচনা করব তা হল আইন/ LL.B / এলএল.বি পড়লে কি শুধু উকিলের কাজ করতে হবে এবং শুধু উকিলই হওয়া যায়, নাকি আরও অন্যান্য কাজ করা যায়।

শুধু কি উকিল হবার জন্যই LL.B পড়তে হয়? এর উত্তর এক কথায় “না”, এলএল.বি পড়লে যে শুধুই উকিল হতে হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নাই। এলএল.বি পড়ে দেশের যে কোন প্রতিষ্ঠানে পি.এস টু এম.ডি/ ম্যানেজার পদে চাকুরী করতে পারবেন। উকিল না হয়েও আইনি পরামর্শক হিসেবে বিভিন্ন কোম্পানিতে চাকুরী করতে পারবেন। নিজ নামে কোন প্রতিষ্ঠান খুলতে পারেন, যেখানে বিভিন্ন নথি প্রস্তুত ও আইন পরামর্শ দিয়ে আয় করতে পারবেন। নিচে আরো কিছু তথ্য ভাগাভগি করা হল আপনাদের সাথে:
১. কোম্পানী প্রতিনিধি: বিভিন্ন কোম্পানিতে তাদের নথি ও কোম্পানির মামলা পরিচালনার জন্য স্থায়ীভাবে প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়ে থাকে সেখানে চাকুরী করতে পারবেন। চাকুরীর জন্য প্রয়োজন হবে আইন বিষয়ে অনার্স সাথে প্রয়োজন হতে পারে মাস্টার ডিগ্রি পাস।
২. কোম্পানীর প্রশাসন: যেকোন প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার প্রথম পছন্দ থাকে আইন বিভাগ থেকে অনার্স কিংবা অনার্সের সাথে মাস্টার ডিগ্রির অধিকারি কোন আবেদনকারী।
৩. আজীবন সার্ভিস মেয়াদ: সরকারি চাকুরীর মত আইনি সেবা দেবার জন্য কোন সুনির্দিষ্ট কার্যকালের বাধ্যবাধকতা নাই। আজীবন সার্ভিস দেয়া যাবে, অবসরের কোন সীমারেখা নাই।
৪. ভূমি বিষয়ে পরামর্শক: দেশের বেশিরভাগ সমস্যা ভূমি কেন্দ্রিক। এসব সমস্যা সমাধাকল্পে আবেদনকারিরা সঠিক তথ্যের অভাবে আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হন। একজন ভূমি আইন পরামর্শক হিসেবে স্বাধীন পেশা বেছে নিয়ে আপনি ভূমি বিষয়ক পরামর্শ প্রদান করে জন-সাধারণের সেবায় মননিবেশ করতে পারবেন।
৫. জনপ্রতিনিধি হতে সহায়তা: একজন দক্ষ জনপ্রতিনিধি হতে হলে দেশের বিদ্যমান আইন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরী। জনপ্রতিনিধিদের বিভিন্ন সমস্যার সম্মুক্ষিণ হতে হয় তাই তাৎক্ষনিক সু-পরামর্শ অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহনে ব্যর্থ হলে চরম মূল্য দিতে হয়। তাই একজন আইনজ্ঞ ব্যক্তি জনপ্রতিনিধি হলে তিনি নিজে নিজের সহায়তার জন্য যথেষ্ট হয়ে থাকেন, যা তাকে একজন দক্ষ জনপ্রতিনিধি হতে সহায়ক।
৬. নিজের জন্য: আপনি নিজেকে সহায়তা নিজের সকল ডকুমেন্ট সংগ্রহে রাখা, হালনাদাগ রাখা, জমি, ঘড়, বাড়ি, দালান এর সকল নথি সংগ্রহ ও হালনাগাদ রাখার জন্য আইন বিষয়ে পড়াশোনা আপনাকে সরাসরি সহায়তা করবেন। দেশ বিদেশে অবস্থানের সময় বিভিন্ন সমস্যায় সমাধানের জন্য দ্রুত সকল আইন অনুযায়ী তথ্য সংগ্রহ করে নিজেকে মুক্ত করতে পারবেন। দেশে থাকাকালিন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে সম্পদ বা কোন মামলা মোকাদ্দমায় পড়লে আইন অনুযায়ী দ্রুত সকল তথ্য সংগ্রহ করে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে পারবেন।
৭. মুক্ত পেশা: কোন আইন ফার্ম শুরু করতে পারেন। শুরুর দিকে আপনি নিজেই সকল কাজ করতে পারবেন। যদি ফার্মের পরিধি বৃদ্ধি নাও পায় তবুও একক ভাবে এবং মুক্ত পেশায় হিসেবে একক আইন ফার্ম চালু রাখতে পারবেন যার মেয়াদ হবে আপনার ইচ্ছের উপর নির্ভরশীল।
৮. শিক্ষকতা: আইন নিয়ে পড়াশোনা করে আপনি দেশের পাবালিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিষয়ে শিক্ষকতা করতে পারবেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি আপনি বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সহকর্মী, ছাত্র/ ছাত্রীদের কাছ থেকে বিভিন্ন সমস্যা জানতে পারবেন যা আপনাকে আইন পেশায় যেতে বা আইনি পরামর্শক হিসেবে কাজ করতে যথেষ্ঠ সহায়তা উদ্দ্যোম ও তথ্য সরবরাহ করবে। এসব নিয়মিত অনুশীলন বা প্রাকটিসে আপনি ধিরে ধিরে দক্ষ শিক্ষক এবং একজন দক্ষ আইনি পরামর্শক হয়ে উঠবেন।
৯. দলিল লেখক: দক্ষ দলিল লেখক হতে চাইলে আইন নিয়ে পড়তে হবে। আইন পড়ার মাধ্যমেই আপনি সঠিক আইনে থেকে দক্ষ দলিল লেখক হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার গঠন করতে পারবেন।