প্রায় সকল প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে এস.এস.সি এবং এইচ.এস.সি রেজাল্টের উপর ভিত্তি করে টিউশন ফি ওয়েভার দিয়ে থাকে যদিও তা ক্যান্সেল হবার সম্ভাবনা থাকে (এখানে দেখুন)। রেজাল্টের উপর পাওয়া টিউশন ফি ওয়েভারের চেয়েও অতিরিক্ত আরো ওয়েভার যেভাবে বৃদ্ধি করার সম্ভাবনা থাকে সেসব বিষয়ে আলোচনা করা যাক।
১. দরিদ্র: বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ এর ৯-৪ এর মতে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে ভর্তিকৃত মোট ছাত্রের ৩ শতাংশ মেধাবী অথচ দরিদ্র ছাত্রদের জন্য সংরক্ষণ ও ভর্তি করাতে হয় (বাধ্যবাধকতা রয়েছে)। সুতরাং আপনার জানা মেধাবী অথচ দরিদ্র ছাত্র/ ছাত্রী পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হতে না পারলে তাদের জানাতে পারেন এই সুবিধা নেবার জন্য। সুবিধাটি নেবার জন্য আবেদনকারীকে ইউনিভার্সিটি এর পাশের জনপ্রতিনিধি বা তার নিজ এলাকার জনপ্রনিধির সুপারিশ দিতে হবে। সেই সাথে ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি-কর্পোরেশন থেকে দরিদ্র প্রমাণক সনদ প্রয়োজন হবে। অন্যান্য যা নথি প্রয়োজন হবে তা আপনি ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হবার সময় জানতে পারবেন।

২. মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান: বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ এর ৯-৪ এর মতে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে ভর্তিকৃত মোট ছাত্রের ৩ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষণ ও ভর্তি করাতে হয়। আবেদনকারীকে উক্ত সুবিধা নেবার জন্য ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের বরাবর সকল নথি উপস্থাপন পূর্বক আবেদন করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান সহ তাদের নাতি- পুতি- (আর জানা নাই) সবার জন্য।
৩. শিবলিং: আপনার বড় ভাই- বোন ভর্তিচ্ছু ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি থাকলে আপনি ভর্তির সময় তথ্য দিয়ে অতিরিক্ত ওয়েভার পাবেন। ভর্তিচ্ছু ইউনিভার্সিটিতে এ সুবিধা আছে কি/না তা জেনে আপনার বড় ভাই- বোন ভর্তি হতে পারেন বা আপনার ছোট ভাই- বোনদের সুবিধা দিতে আপনি ভর্তি হতে পারেন।
* ভর্তি হবার পর কোন কারনে ওয়েভার বৃদ্ধির প্রয়োজন হলে যেভাবে আবেদন করবেন তা দেখুন এখানে।
৪. স্পাউস: ভর্তিচ্ছু ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষার্থীর স্বামী/ স্ত্রী থাকলে বেশ কিছু ইউনিভার্সিটি বিশেষ ওয়েভার দিয়ে থাকে। খোজ নিয়ে ভর্তি হলে পরিবারে কিছুটা কম খরচে সনদ সংগ্রহের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
৫. নির্দিষ্ট স্কুল/ কলেজ: প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিগুলো বিভিন্ন স্কুল/ কলেজে/ টেকনিক্যাল কলেজ ক্যাম্পেইন করে থাকে এবং সেসব প্রতিষ্ঠানের সাথে বিভিন্ন চুক্তি করে থাকে। এসব চুক্তির আওতায় উক্ত প্রতিষ্ঠান থেকে আগত ছাত্র- ছাত্রীদের বিশেষ ওয়েভার দেয়া হয়।
৬. বিশেষ ছাড়: ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ইউনিভার্সিটির ছাত্র ভর্তির জন্য ছাড় প্রদান করা হয়। সাধারণত স্প্রিং ও সামার সেমিস্টারে ছাত্র কম ভর্তি হবার কারণে অনেক ইউনিভার্সিটি বিশেষ ছাড়ে ছাত্র ভর্তির অফার দিয়ে থাকে, সে সময়ে ভর্তি হলে বেশ ভালো টিউশন ফি ওয়েভার পাওয়া যায়।
৭. ভর্তি মেলা: বিভিন্ন এ্যাড এজেন্সি বেশ কয়েকটি ইউনিভার্সিটির সমন্বয়ে ভর্তি মেলা আয়োজন করে থাকে। উক্ত সময়ে একই স্থানে বিভিন্ন ইউনিভার্সিটির তথ্য সরাসরি পাওয়া যায়, অন্য সময়ে যেখানে ওয়েবে একটা একটা করে খুজতে হয় সেখানে ভর্তি মেলায় একটি স্থানে অনেক ইউনিভার্সিটির তথ্য খুব সহজেই পাওয়া যায়। অনেক ইউনিভার্সিটি এক সাথে থাকায় শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগীতামূলক ওয়েভার পাওয়ার একটি সুযোগ তৈরী হয়।
৮. জনপ্রতিনিধি: প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির এলাকায় যে জনপ্রতিনিধি আছেন তার মাধ্যমেও ওয়েভার পাওয়া যেতে পারে। বিভিন্ন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি এলাকার জনপ্রনিধিদের সম্মানের জন্য নির্দিষ্ট ওয়েভার সংরক্ষণ করে থাকেন। ভর্তি হবার পূর্বে জনপ্রতিনিধিদের সাথে দেখা করে বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তথ্য সংগ্রহ করে ওয়েভার বৃদ্ধি করা যেতে পারে।
৯. সংস্থা: প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি বিভিন্ন সংস্থা ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি করে থাকে। সেসব প্রতিষ্ঠান থেকে সুপারিশ আনতে পারলে টিউশন ফি ওয়েভার বৃদ্ধি করা সম্ভব।
১০. বিওটি: বোর্ড অব ট্রাষ্টিজ এর সুপারিশক্রমে আপনি আপনার টিউশন ফি ওয়েভার বৃদ্ধি করতে পারবেন। প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির সম্মানিক ট্রাষ্টিজদের নির্দিষ্ট ও বিশেষ ওয়েভার দেবার ক্ষমতা থাকে, তাদের সুদৃষ্টিতে আপনার টিউশন ফি ওয়েভার বৃদ্ধি পেতে পারে।
১১. চেয়ারম্যান: বিওটি এর চেয়ারম্যান অন্যান্য মেম্বারদের মত নির্দিষ্ট ও বিশেষ ওয়েভার দেবার ক্ষমতা সংরক্ষণ করে থাকেন। ক্ষেত্রবিশেষ চেয়ারম্যান শিক্ষার্থীর আবেদন এবং সুপারিশক্রমে টিউশন ফি শতভাগ মওকুফ করতে পারেন।
১১. রেফারেন্স: প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির এলাকার বাহিরের কোন জনপ্রতিনিধি, কর্মকর্তা, সচিব, বিভিন্ন পেশাজীবি, ব্যবসায়ী, কোন সংস্থার রেফারেন্স থাকলে অনেক প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি বিশেষ ওয়েভারের ব্যবস্থা করে থাকে।
১২. খেলোয়ার: জাতীয় বা বিভিন্ন গ্রুপে খেলোয়ারদের অনেক প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি ব্রান্ডিং এর অংশ হিসেবে বিনা টিউশন ফিতে ভর্তি নিয়ে থাকে।
১৩. স্টাফ: প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে চাকুরীরত স্টাফদের পরিচিত আত্বিয়দের বিশেষ ছাড়ে ভর্তির সুযোগ থাকে বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে, খোজ নিয়ে ভর্তি হয়ে নিতে পারেন অতিরিক্ত টিউশন ফি ওয়েভার।
১৪. ছাত্র ভর্তি: প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে ছাত্র থাকা অস্থায় কোন ছাত্র ভর্তি করাতে পারলে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা প্রায় সকল ভার্সিটিতেই থাকে। এভাবে যত ছাত্র ভর্তি করাতে পারবেন তত আপনার টিউশন ফি কমে আসবে।
১৫. একসাথে ভর্তি: বন্ধু মহলে অনেকে একসাথে ভর্তি হতে চাইলে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি থেকে আলাদা করে টিউশন ফি ওয়েভার চাইতে পারেন।
১৬. প্রতিষ্ঠাতার নিজ এলাকা: বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা তার এলাকার জন্য বিশেষ ছাড়ে ছাত্র ভর্তির সুযোগ দিতে পারেন। এক্ষেত্রে যে আপনার এলাকার কোন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতা থাকলে সে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগাযোগ করে ভর্তি হতে পারেন।
১৭. ক্রেডিট ট্রান্সফার অফার: কিছু কিছু প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি ক্রেডিট ট্রান্সফার করে আসা ছাত্র-ছাত্রীদের আলাদা করে ওয়েভার প্রদান করে থাকে। ক্রেডিট ট্রান্সফার করে আসা ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা বেশি হলে অর্থ্যাৎ একসাথে কয়েকজন ক্রেডিট ট্রান্সফার করে আসলে কিছু প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি আলাদা ওয়েভারের সাথে এক্সট্রা আরো ওয়েভার প্রদান করে। ক্রেডিট ট্রান্সফার করে কোন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হতে চাইলে তাদের সাথে আগে থেকে যোগাযোগ করে আসলে ওয়েভারের পরিমান বৃদ্ধি করা যায়।